April 19, 2026, 12:42 pm

দক্ষিণ সিটি ও বুখারেস্টের মধ্যে দেশের প্রথম ‘সিস্টার সিটিজ’ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ঃ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টের (থার্ড ডিস্ট্রিক্ট) মধ্যে দেশের প্রথম ‘সিস্টার সিটিজ’ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় নগর ভবনের মেয়র হানিফ মিলনায়তনে দুই দেশের দুই সিটি করপোরেশনের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং বুখারেস্টের (থার্ড ডিস্ট্রিক্ট) মেয়র রবার্ট সোরিন নেগোইতা (3rd district mayor of bucharest, Robert-Sorin Negoita) নিজ নিজ করপোরেশনের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের দুই সিটি করপোরেশনের মধ্যে পর্যটন শিল্পের বিকাশ, সাংস্কৃতিক বিনিময়, যানজট নিরসন ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কারিগরি তথ্য ও প্রযুক্তি বিনিময়, শিল্প-বাণিজ্যের বিকাশ এবং বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি ইত্যাদি নানা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তি রচিত হলো।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দক্ষিণ সিটির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, “আমাদের লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, তারা মসজিদ, জাতীয় শহিদ মিনারসহ অসংখ্য স্থাপনা রয়েছে যেগুলো পর্যটক আকর্ষণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়াও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক উৎসব, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং জনগণের আন্তরিকতা সহজেই দেশি-বিদেশি পর্যটককে মুগ্ধ করতে যথেষ্ট। তাই, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের প্রাণ সঞ্চার হবে বলেই আমার বিশ্বাস।”

পর্যটন শিল্পের বিকাশে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে জানিয়ে ঢাদসিক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, “আমাদের ঐতিহাসিক স্থাপনার সংখ্যা প্রচুর। সেসব স্থাপনা আমাদের পর্যটন শিল্পের বিকাশে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই, আমরা সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে পুনরুজ্জীবন দানে কার্যক্রম শুরু করছি। এরই অংশ হিসেবে আমাদের নর্থব্রুক হলের সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।”

সিস্টার সিটিজ এর ধারণা বিশ্বব্যাপী বহুল প্রচলিত হলেও বাংলাদেশে এই প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করা হলো জানিয়ে ঢাদসিক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, “সিস্টার সিটিজ এর ধারণা একেবারে নতুন না হলেও খুব বেশি পুরোনোও নয়। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বুখারেস্টের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে নতুন আরেকটি দিগন্ত উন্মোচিত করলো। এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর দু’দেশের বাণিজ্যিক ও পর্যটন সম্পর্ক যেমন বৃদ্ধি করবে তেমনি অর্থনৈতিক পরিসর বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।”

সমঝোতা স্মারক সাক্ষর অনুষ্ঠানে বুখারেস্টের মেয়র রবার্ট সোরিন নেগোইতা বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা এ সমঝোতার মাধ্যমে উভয় শহরেই কর্মসংস্থান, বাণিজ্য এবং পর্যটনের সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া দুই শহরের বাইরেও দুই দেশের মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়বে। এই সমঝোতা পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

বাংলাদেশ তাকে মুগ্ধ করেছে জানিয়ে বুখারেস্টের মেয়র রবার্ট সোরিন নেগোইতা বলেন, “বাংলাদেশ খুবই চমৎকার দেশ। এ দেশের মানুষও অত্যন্ত অমায়িক। আমি বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছি, বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় পরিবেশ আমাকে মুগ্ধ করেছে। বাংলাদেশে শুধু রোমানিয়া নয়, ইউরোপীয় পর্যটকের সংখ্যা বাড়াতেও আমি কাজ করবো।”

এ সময় বুখারেস্টের মেয়র দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গৃহীত কামরাঙ্গীরচরে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক অঞ্চলে (সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট) বিনিয়োগের আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে দক্ষিণ সিটির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বুখারেস্টের মেয়র রবার্ট নেগোইতাকে পারস্পরিক সহযোগিতার স্মারক হিসেবে ‘ঢাকার চাবি’ হস্তান্তর করেন। এ সময় ঢাদসিক মেয়র বুখারেস্টের মেয়রকে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বাহন ‘রিক্সা’ এর স্মারকও উপহার দেন।

অনুষ্ঠান শেষে মেয়র রবার্ট নেগোইতা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের নেতৃত্বে বুখারেস্টে একটি প্রতিনিধি দল পাঠাতে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সিতওয়াত নাঈম, সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী সালেহ আহম্মেদ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির, করপোরেশনের কাউন্সিলরবৃন্দ, বুখারেস্ট পুলিশের ডেপুটি ডিরেক্টর ভিক্টর নিয়াগু(Victor Neagu), বুখারেস্টের সিটি ম্যানেজার মারিউস ড্যানিয়েল সিওবিকা(Marius-Daniel Ciobica), রোমানিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (Mohammad Rafiqul Islam) উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা